প্রথম প্রস্তাবের আগে যা যা জানবেন
প্রথম প্রস্তাবের আগে যা যা জানবেন
নো-ঘটক থেকে, প্রস্তাব পাঠানোর আগে একটু ভেবে দেখুন
বিয়ের জন্য একটা বায়োডাটা পছন্দ হয়েছে
মনে হচ্ছে, এই মানুষটার সাথেই হয়তো কথা এগোতে পারে। এখন কি প্রস্তাব পাঠিয়ে দেবেন?
একটু দাঁড়ান। প্রস্তাব পাঠানো মানে শুধু একটা বোতাম চাপা নয়। এটা একটা সিদ্ধান্ত, যেখানে আপনার সময় আর আবেগ দুটোই জড়িত। তাই প্রথম প্রস্তাব পাঠানোর আগে কয়েকটা বিষয় একটু ভেবে দেখা ভালো।
১. পুরো বায়োডাটা মন দিয়ে পড়ুন, শুধু বয়স আর জেলা নয়
অনেকে বায়োডাটার উপরের অংশটুকু দেখেই প্রস্তাব পাঠিয়ে দেন। বয়স কত, জেলা কোথায়, পড়াশোনা কী। বাকিটা আর পড়েন না। এটা ঠিক নয়।
একটা বায়োডাটার আসল পরিচয় লুকিয়ে থাকে লেখা অংশে। নিজের সম্পর্কে, পরিবার, সঙ্গীর প্রত্যাশা, এই জায়গাগুলোতেই বোঝা যায় মানুষটা আসলে কেমন, কী চায়, কীভাবে জীবন কাটাতে চায়।
প্রস্তাব পাঠানোর আগে অন্তত এই তিনটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিন। তার প্রত্যাশা কি আপনার সাথে মেলে? তার পরিবারের মূল্যবোধ কি আপনার পরিবারের সাথে যায়? তার জীবনযাপনের ধরন কি আপনার সাথে মানানসই?
গুরুত্বপূর্ণ
এই তিনটার উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবেই প্রস্তাব পাঠান। শুধু বয়স আর জেলা দেখে প্রস্তাব পাঠানো মানে না দেখে ঢিল ছোঁড়া।
২. সঙ্গীর প্রত্যাশা আপনার সাথে মেলে কি না দেখুন
এটা সবচেয়ে জরুরি, অথচ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়।
ধরুন, একজন পাত্রী লিখেছেন, বিয়ের পর তিনি চাকরি চালিয়ে যেতে চান। আপনি চান আপনার স্ত্রী ঘরে থাকুক। তাহলে এই প্রস্তাব পাঠিয়ে লাভ নেই। মূল জায়গাতেই তো মিল নেই।
প্রস্তাব পাঠানোর আগে এই বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন। চাকরি বা পড়াশোনা নিয়ে দুজনের ভাবনা, বিয়ের পর কোথায় থাকবেন, পরিবারের সাথে থাকবেন নাকি আলাদা, সন্তান নিয়ে পরিকল্পনা, ধর্মীয় চর্চা কতটা।
পরামর্শ
এই মৌলিক বিষয়গুলোতে মিল না থাকলে, মানুষটা যত ভালোই হোক, সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।
৩. বায়োডাটাটা সক্রিয় কি না দেখে নিন
অনেক ম্যাট্রিমনি সাইটে পুরনো, নিষ্ক্রিয় বায়োডাটা পড়ে থাকে। সেই মানুষ হয়তো অনেক আগেই বিয়ে করে ফেলেছেন, কিন্তু বায়োডাটাটা রয়ে গেছে।
এমন বায়োডাটায় প্রস্তাব পাঠালে উত্তর আসে না। শুধু শুধু আপনার সময় নষ্ট।
নো-ঘটকে আমরা প্রতিটা বায়োডাটার সক্রিয়তা দেখাই, মানে মানুষটা কত সম্প্রতি লগইন করেছেন। প্রস্তাব পাঠানোর আগে দেখে নিন।
বিঃদ্রঃ
সক্রিয়তা কত? নব্বই শতাংশের বেশি হলে বুঝবেন খুব সক্রিয়। সর্বশেষ কবে লগইন করেছেন? উত্তর হার কেমন, মানে এই মানুষটা প্রস্তাবের উত্তর দেন কি না।
৪. নিজের বায়োডাটা আগে সম্পূর্ণ করুন
একটা কথা ভাবুন তো। আপনি যেমন অন্যের পুরো তথ্য দেখতে চান, অন্যরাও ঠিক তেমনই চায়।
আপনার বায়োডাটা যদি অসম্পূর্ণ থাকে, পরিবারের তথ্য নেই, নিজের সম্পর্কে কিছু লেখা নেই, প্রত্যাশার ঘর ফাঁকা, তাহলে অপর পক্ষ আপনাকে নিয়ে সিদ্ধান্তই নিতে পারবেন না। এতে আপনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
সতর্কতা
প্রস্তাব পাঠানোর আগে নিজের বায়োডাটাটা একবার দেখে নিন। সব দরকারি তথ্য দেওয়া আছে তো? নিজের সম্পর্কে সৎভাবে কিছু লিখেছেন? পরিবারের কথা স্পষ্ট করে বলা আছে? প্রত্যাশা পরিষ্কার?
৫. পরিবারকে জানিয়ে রাখুন
আমাদের দেশে বিয়ে মানে দুই পরিবারের ব্যাপার। তাই প্রস্তাব পাঠানোর আগে নিজের পরিবারের সাথে একটু কথা বলে নেওয়া ভালো।
কেন বলছি? কারণ প্রস্তাব যদি গৃহীত হয় আর যোগাযোগ শুরু হয়, তখন তো পরিবারকে জড়াতেই হবে। আগে থেকে জানিয়ে রাখলে কয়েকটা সুবিধা পাবেন।
৬. প্রস্তাবের নিয়ম আর খরচটা বুঝে নিন
প্রস্তাব পাঠানোর আগে প্ল্যাটফর্মের নিয়মগুলো একটু জেনে নিন, যাতে পরে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
নো-ঘটকে যেভাবে কাজ করে। প্রস্তাব পাঠাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রেডিট লাগে। পাত্র বা পাত্রী রাজি না হলে বেশিরভাগ টাকা ফেরত পাবেন। কেউ উত্তর না দিলেও টাকা ফেরত পাবেন। শুধু সফল যোগাযোগ হলেই পুরো খরচ প্রযোজ্য হয়।
শেষ কথা
প্রথম প্রস্তাব একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাড়াহুড়ো করবেন না, আবার বেশি ভয়ও পাবেন না।
ছোট্ট ছয়টা কথা মনে রাখুন। এক, পুরো বায়োডাটা পড়ুন, শুধু বয়স আর জেলা নয়। দুই, প্রত্যাশা মেলে কি না দেখুন, মৌলিক মিলটা জরুরি। তিন, বায়োডাটা সক্রিয় কি না যাচাই করুন। চার, নিজের বায়োডাটা আগে সম্পূর্ণ করুন। পাঁচ, পরিবারকে জানিয়ে রাখুন। ছয়, নিয়ম আর খরচটা বুঝে নিন।
ভেবেচিন্তে পাঠানো একটা প্রস্তাব, একশোটা এলোমেলো প্রস্তাবের চেয়ে অনেক ভালো।
নো-ঘটক বিশ্বাস করে, বিয়ে হোক ভেবেচিন্তে, সম্মানের সাথে, সততার সাথে। তাড়াহুড়োর বিয়ে নয়, বরং সঠিক মানুষের সাথে সঠিক একটা শুরু।
আপনার প্রথম প্রস্তাব শুভ হোক, ইনশাআল্লাহ।